পার্টনার আগের মতো মেসেজ করে না। ও কি ইন্টারেস্ট হারাচ্ছে?
কম মেসেজ করা মানেই ইন্টারেস্ট হারানো না। অনেক সম্পর্কেই একে অপরের সঙ্গে সহজ হয়ে গেলে আর সামনাসামনি বেশি সময় কাটালে মেসেজ এমনিই কমে যায়। তবে মেসেজের পাশাপাশি কথায় আগের আন্তরিকতা না থাকলে, একসঙ্গে সময় কাটানোর প্ল্যান কমলে বা আপনার ব্যাপারে আগ্রহ কমে গেলে কথা বলা দরকার। আর ব্যাপারটা যদি আপনাকে ভাবায়, কারণ যা-ই হোক, কথাটা তুলুন।
সময়ের সঙ্গে মেসেজ করার অভ্যাস কেন বদলায়
শুরুর দিকে মেসেজ করেই একে অপরকে চেনা হয়। পরে হয়তো একসঙ্গে থাকছেন, রোজ দেখা হচ্ছে, বা এতটাই চেনা হয়ে গেছে যে প্রতি ঘণ্টার আপডেট দেওয়ার দরকারই পড়ে না। কম মেসেজ করা মানেই দূরত্ব না। একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হয়ে গেছেন বলেও এমন হতে পারে।
স্ট্রেসেও মেসেজ বদলে যায়। কাজে টানা চাপ, বাড়ির টেনশন বা ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, এসব অনেক সময় ছোট ছোট রিপ্লাইয়ে ধরা পড়ে, কেউ মুখে বলার অনেক আগেই।
কী কী মিলিয়ে দেখবেন
শুধু কতটা কমেছে সেটা না, কীভাবে বদলেছে সেটা দেখুন। মেসেজ ছোট হয়েছে, কিন্তু কথায় আগের আন্তরিকতা আছে? এখনও কি আপনার দিন কেমন গেল জিজ্ঞেস করে, আপনার প্ল্যান মনে রাখে, ছোট ছোট যে কথাগুলো শুনলে আপনার ভালো লাগে সেগুলো বলে? একসঙ্গে কাটানো সময়টা কি এখনও ভালো যায়?
বদলটা ধীরে ধীরে এসেছে নাকি হঠাৎ, সেটা খেয়াল করুন। কোনো এক সপ্তাহে হঠাৎ বদলে গেলে সাধারণত তার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে। তখন “তুমি কি ইন্টারেস্ট হারাচ্ছ?” জিজ্ঞেস করার চেয়ে ওই সপ্তাহে কী হয়েছিল জানতে চাওয়াটা অনেক বেশি কাজের।
কখন এটা আরও বড় কিছুর ইঙ্গিত
মেসেজ কমার সঙ্গে যদি একসঙ্গে সময় কাটানোর প্ল্যানও কমে, দেখা করার কথা বারবার ক্যানসেল হয়, পাশে বসেও মন অন্য কোথাও থাকে, আর আপনার ব্যাপারে আগ্রহ কমে যায়, তাহলে সম্পর্কটার দিকে একটু নজর দেওয়া দরকার। তবে কেন এমন হচ্ছে, সেটা এসব থেকে বোঝা যায় না। সেটা জানতে কথা বলতে হবে।
কিছু আচরণের সঙ্গে ইন্টারেস্ট কমার কোনো সম্পর্কই নেই। আপনার ফোন চেক করা, কোথায় আছেন সেটা বলতেই হবে বলে চাপ দেওয়া, বা মেসেজে হুমকি দেওয়া কিংবা অপমান করা—কোনোটাই স্বাভাবিক না, যে কারণই দেখাক না কেন।
কীভাবে কথাটা তুলবেন
আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না। কী খেয়াল করেছেন আর কেমন লাগছে, সেটা দিয়ে শুরু করুন: “ইদানীং আমরা মেসেজে কম কথা বলছি। আগের মতো কথা বলতে ইচ্ছে করে। তোমার সব ঠিক আছে তো?” তারপর মন দিয়ে শুনুন। হয়তো কোনো চাপ চলছে, হয়তো সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলার আছে। আবার স্রেফ দুজনের অভ্যাস আলাদা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কীভাবে কথা বললে দুজনেরই ভালো লাগবে, সেটা একসঙ্গে ঠিক করে নিতে পারেন।
কথা বলার আগে বদলটা ঠিক কবে শুরু হলো দেখে নিতে চাইলে, HeyMarco এক্সপোর্ট করা চ্যাট পড়ে রিপোর্ট লিখে দেয়। প্রমাণ হিসেবে রিপোর্টে চ্যাটের আসল কথাও তুলে দেয়। কে কতক্ষণে রিপ্লাই দেয় আর কে আগে মেসেজ করে, তার হিসাব চ্যাটের মেসেজ থেকেই করা হয়। এটা Marco-র আন্দাজ না।
- মেসেজ কতটা লম্বা, কতটা আন্তরিক মেসেজ ছোট হলেও কথায় আন্তরিকতা আছে, নাকি সেটুকুও নেই?
- আপনার খোঁজখবর এখনও কি দিন কেমন গেল জিজ্ঞেস করে, আর সেটা নিয়ে আরও জানতে চায়?
- কে আগে মেসেজ করে আগের চেয়ে এখন কি একজনই বেশি কথা শুরু করছে?
- কবে থেকে বদলেছে মাসের পর মাস ধরে ধীরে ধীরে, নাকি কোনো এক সপ্তাহে হঠাৎ কমে গেছে?
- প্ল্যান এখনও কি একসঙ্গে সময় কাটানোর প্ল্যান হয়, আর প্ল্যানমতো দেখা হয়?
এরপর লোকে যা জানতে চায়
- সম্পর্ক যত পুরোনো হয়, মেসেজ কমে যাওয়া কি স্বাভাবিক?
- হ্যাঁ। একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হয়ে গেলে অনেক কাপলই কম মেসেজ করে। আসল কথা হলো, এখনও দুজনে কাছাকাছি আছেন কি না, আর যত্নটা টের পান কি না।
- পার্টনারকে কি বলব যে আমি আরও মেসেজ চাই?
- হ্যাঁ, যদি আপনার কাছে এটা জরুরি হয়। একেকজনের অভ্যাস একেকরকম, আর জানলে অনেকেই খুশি মনে একটু বদলে নেয়।
- শুধু চ্যাট দেখে কি বোঝা যায় ও ইন্টারেস্ট হারিয়েছে কি না?
- না। চ্যাট দেখায় যে কিছু একটা বদলেছে, কিন্তু কেন বদলেছে, সেটা না। সেটা জানতে কথা বলতেই হবে।
রিপোর্টটা আসলে কেমন হয়, দেখে নিন: “অয়ন আর তুমি: আট মাস ধরে “আমাদের মধ্যে কিছু নেই”, অথচ 6,400টা মেসেজ বলছে অন্য কথা”। একটা বানানো চ্যাট নিয়ে লেখা স্যাম্পল রিপোর্ট।
স্যাম্পল রিপোর্টটা পড়ুন